গত ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, কলকাতার ঐতিহ্যমণ্ডিত প্রেক্ষাগৃহ রবীন্দ্রসদন এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সাক্ষী হয়ে ওঠে। শহরের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক সংস্থা মুক্তছন্দ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই রবীন্দ্রসঙ্গীতানুষ্ঠান— “আমার মুক্তি আলোয় আলোয়”— এক অনন্য শিল্পসম্মিলনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে রবীন্দ্রচেতনার গভীরতা নতুন ব্যঞ্জনায় উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানের মূল প্রেরণা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরন্তন মুক্তির বাণী—
“আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে…”
এই ভাবধারাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক অন্তর্মুখী, ভাবনামগ্ন ও নান্দনিক পরিবেশনা।
সন্ধ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মনোজ মুরলী নায়ার ও মনীষা মুরলী নায়ার। তাঁদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের একের পর এক পরিবেশনা শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। সুরের ভেতর দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, আত্মসমর্পণ ও আত্মবিসর্জনের যে দর্শন রবীন্দ্রনাথ তুলে ধরেছেন, তা শিল্পীদের পরিবেশনায় এক বিশেষ গভীরতা লাভ করে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভাষ্যপাঠ, যেখানে রত্না মিত্র রবীন্দ্রবাণীর অন্তর্নিহিত দর্শন ও ভাবার্থকে সাবলীল ও মনোগ্রাহী ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন। তাঁর পাঠ শ্রোতাদের রবীন্দ্রচিন্তার গভীরে প্রবেশ করতে সহায়তা করে।
এছাড়াও, বিশেষ অতিথি শিল্পী দেবলীনা কুমার-এর নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর নৃত্যের ছন্দে ও অভিব্যক্তিতে রবীন্দ্রভাবনা দৃশ্যমান রূপ লাভ করে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।
গান, বাণী ও নৃত্যের সুনিপুণ মেলবন্ধনে সাজানো এই অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন ছিল শিল্পরসিকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা, তেমনি অন্যদিকে এটি হয়ে ওঠে আত্মঅন্বেষণ ও মুক্তিচিন্তার এক গভীর অনুষঙ্গ। দর্শকদের সক্রিয় উপস্থিতি ও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা এই আয়োজনের সার্থকতাকে আরও সুদৃঢ় করে।
সার্বিকভাবে, “আমার মুক্তি আলোয় আলোয়” শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং ছিল রবীন্দ্রদর্শনের আলোয় আলোকিত এক সৃজনশীল যাত্রা, যা দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে অনুরণিত হবে।
অনুষ্ঠানের সমস্ত ছবি দেখার জন্য লিঙ্কে ক্লিক করুন https://photos.app.goo.gl/Yvc1EuLRK7cdr6mh7
